দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মান সরকার।
জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র শুক্রবার জানান, বার্লিন গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সেনাবাহিনীকে গাজায় নিয়ন্ত্রণ ৭০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য আসে।
এই পদক্ষেপ গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া ওই চুক্তিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকায় অবস্থান কমানোর কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে তারা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে, ফলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ফের শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ গাজার ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জীবনকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলবে, যারা ইতোমধ্যে উপত্যকার মাত্র ৩৫ শতাংশ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছে।
জার্মানি ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বার্লিন পশ্চিম তীর দখল বৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো কিছু ইসরায়েলি পদক্ষেপের সমালোচনা শুরু করেছে।
নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার বলেন, ইসরায়েল গাজায় ৭০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে। তিনি জানান, আগে ৫০ শতাংশ, পরে ৬০ শতাংশ ছিল এবং এখন ৭০ শতাংশে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব দিক থেকে হামাসের ওপর চাপ দিচ্ছি, বাকিদের মোকাবিলা করব।’
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সময় ইসরায়েল ‘ইয়েলো লাইন’ নামের সীমারেখার পেছনে সরে গিয়ে প্রায় ৫৩ শতাংশ গাজা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এরপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ বলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের ইঙ্গিত দেয়। ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ উৎসাহিত করার কথা বলেছেন।
ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক গ্যারেথ ডেল বলেন, ‘নেতানিয়াহুর এই পরিকল্পনা যুদ্ধবিরতির শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দ্বারা প্রভাবিত।’
এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধের কারণে মানব উন্নয়নে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে এবং পুনর্গঠনে আগামী এক দশকে ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে।
এছাড়া গাজার অর্ধেকের বেশি হাসপাতাল অকার্যকর এবং প্রায় সব স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার ইসরায়েল জানায়, গাজায় সাম্প্রতিক এক হামলায় হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। হামাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
/অ